মঠবাড়িয়া ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঠবাড়িয়া শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন মঠবাড়িয়ায় গাজী ওয়াহিদুজ্জামান জাকিরের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণ কোভিড-১৯ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর মঠবাড়িয়ায় পবিত্র কুরআন নিয়ে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ লাইসেন্স জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় চালু হলো মঠবাড়িয়া টপটেন জেনারেল হাসপাতাল মঠবাড়ীয়া চুরির অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় জনতা আটক করেছে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত হলেন মঠবাড়িয়ার ইউএনও আকলিমা আক্তার মেধার দ্যুতি ছড়াল চিকিৎসক-পুত্র উৎস, অলিম্পিয়াডের পর এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ মঠবাড়িয়ায় এতিমখানার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় অগ্রণী ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি-২০২৬ পালিত

মঠবাড়িয়ায় এতিমখানার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশের সময় : ০১:০৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / ৪৯ বার পড়া হয়েছে

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের পাঁচশতকুড়া গ্রামে অবস্থিত মোহাম্মাদিয়া এতিমখানা ও লিন্নাহ বোডিং (নিবন্ধন নং-৬৪৭/০৪, তারিখ: ২২/০১/২০০৪) ঘিরে সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরহুম মোহাম্মদ আলী ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে নিয়মিত অনুদান বরাদ্দ পেয়ে আসছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৪ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে মাত্র একজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। সেখানে কোনো এতিম শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মোহাম্মদ আলীর তিন ছেলে—শহিদুল, মাঈনুদ্দিন ও সোলাইমান—এতিমখানার নামে সমাজসেবা অফিস থেকে সরকারি অনুদানের অর্থ উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এদিকে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য শনিবার বিকেলে একদল সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে,সোলাইমান সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেন এবং তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া ও হামলার চেষ্টার ঘটনাও তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোলাইমান বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিয়ে কিছু না করার অনুরোধ করে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন

মঠবাড়িয়ায় এতিমখানার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০১:০৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের পাঁচশতকুড়া গ্রামে অবস্থিত মোহাম্মাদিয়া এতিমখানা ও লিন্নাহ বোডিং (নিবন্ধন নং-৬৪৭/০৪, তারিখ: ২২/০১/২০০৪) ঘিরে সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা বাধার মুখে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরহুম মোহাম্মদ আলী ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে ২০০৪ সালে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে নিয়মিত অনুদান বরাদ্দ পেয়ে আসছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৪ জন এতিম শিক্ষার্থী থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে মাত্র একজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়। সেখানে কোনো এতিম শিক্ষার্থীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মোহাম্মদ আলীর তিন ছেলে—শহিদুল, মাঈনুদ্দিন ও সোলাইমান—এতিমখানার নামে সমাজসেবা অফিস থেকে সরকারি অনুদানের অর্থ উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এদিকে, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য শনিবার বিকেলে একদল সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে,সোলাইমান সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেন এবং তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত সাংবাদিকরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া ও হামলার চেষ্টার ঘটনাও তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোলাইমান বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নিয়ে কিছু না করার অনুরোধ করে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করে।

অন্যদিকে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।