মঠবাড়িয়া ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঠবাড়িয়া শিরোনাম ::
মঠবাড়িয়ায় হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন মঠবাড়িয়ায় গাজী ওয়াহিদুজ্জামান জাকিরের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ ও বিতরণ কোভিড-১৯ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর মঠবাড়িয়ায় পবিত্র কুরআন নিয়ে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ লাইসেন্স জটিলতা কাটিয়ে পুনরায় চালু হলো মঠবাড়িয়া টপটেন জেনারেল হাসপাতাল মঠবাড়ীয়া চুরির অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় জনতা আটক করেছে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত হলেন মঠবাড়িয়ার ইউএনও আকলিমা আক্তার মেধার দ্যুতি ছড়াল চিকিৎসক-পুত্র উৎস, অলিম্পিয়াডের পর এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ মঠবাড়িয়ায় এতিমখানার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মঠবাড়িয়ায় অগ্রণী ব্যাংকের উদ্যোগে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি-২০২৬ পালিত

পাবলিক পরীক্ষার সময় কি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে?

পাবলিক পরীক্ষা: আদর্শ সময় বনাম বাস্তবতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / ১৯২ বার পড়া হয়েছে

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখলাম। কোমরসমান পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে একজন ছাত্রী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পানিতে পড়ে যায়। শুধু একটি ভিডিও নয়, এমন অসংখ্য ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া কতটা যৌক্তিক?

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা হলো মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি)। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এসব পরীক্ষা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশের আবহাওয়া সবচেয়ে প্রতিকূল থাকে।

এপ্রিল ও মে মাসে তীব্র গরম পড়ে। অনেক সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে থাকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা। গত পাঁচ বছর ধরে ১০৪টি স্কুল ও মাদ্রাসাকে নিয়ে একটি গবেষণার মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ এখনও টিনের চাল, এমনকি টিনের দেয়াল দিয়ে তৈরি। বিদ্যুৎবিহীন প্রচণ্ড গরমে সেই কক্ষে বসে একজন শিক্ষার্থী কতটা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে—এ প্রশ্নের উত্তর সহজেই অনুমান করা যায়। এর সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও যোগ হয়, যা পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে জুন ও জুলাই বর্ষাকাল। এ সময় অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এবছরও দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা ছাড়া অন্যত্র পরীক্ষা চলমান রাখা হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বহু এলাকাও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত চরম দুর্যোগের দিনগুলোতে পরীক্ষা স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত।

তবে মূল প্রশ্ন শুধু একটি দিনের পরীক্ষা নয়। প্রশ্ন হলো—যখন আগেই জানা থাকে যে এই সময় দেশে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা কিংবা তাপপ্রবাহ হতে পারে, তখন প্রতিবছর একই সময়ে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের যৌক্তিকতা কোথায়?

আমার মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ। এ সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূল থাকে, ঝড়-বৃষ্টি কম হয় এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি কম হয়। মাধ্যমিক পরীক্ষা জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা যেতে পারে।

অনেকে বলতে পারেন, এ সময় রমজান মাস বা ঈদের ছুটি থাকতে পারে। কিন্তু রোজা কোনোভাবেই পরীক্ষা আয়োজনের অন্তরায় হওয়ার কথা নয়। বিশ্বের বহু মুসলিমপ্রধান দেশেও রমজানে শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা চলমান থাকে। রোজা রেখে মানুষ যেমন কর্মজীবনের দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি পরীক্ষাও দিতে পারেন। তাই এটিকে বড় বাধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সরকার আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে একই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা এখনও জুন-জুলাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি তার প্রকৃত সক্ষমতা অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে না পারে, তার প্রভাব শুধু ফলাফলে নয়, উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনেও পড়তে পারে। তাই পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, যাতায়াত, দুর্যোগ এবং দেশের সার্বিক বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবলিক পরীক্ষার সময় কি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে?

পাবলিক পরীক্ষা: আদর্শ সময় বনাম বাস্তবতা

প্রকাশের সময় : ০৩:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখলাম। কোমরসমান পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে একজন ছাত্রী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পানিতে পড়ে যায়। শুধু একটি ভিডিও নয়, এমন অসংখ্য ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া কতটা যৌক্তিক?

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পাবলিক পরীক্ষা হলো মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি)। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এসব পরীক্ষা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশের আবহাওয়া সবচেয়ে প্রতিকূল থাকে।

এপ্রিল ও মে মাসে তীব্র গরম পড়ে। অনেক সময় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে থাকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা। গত পাঁচ বছর ধরে ১০৪টি স্কুল ও মাদ্রাসাকে নিয়ে একটি গবেষণার মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ এখনও টিনের চাল, এমনকি টিনের দেয়াল দিয়ে তৈরি। বিদ্যুৎবিহীন প্রচণ্ড গরমে সেই কক্ষে বসে একজন শিক্ষার্থী কতটা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারে—এ প্রশ্নের উত্তর সহজেই অনুমান করা যায়। এর সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও যোগ হয়, যা পরীক্ষার্থীদের মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অন্যদিকে জুন ও জুলাই বর্ষাকাল। এ সময় অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রায় নিয়মিত ঘটনা। এবছরও দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা ছাড়া অন্যত্র পরীক্ষা চলমান রাখা হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বহু এলাকাও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত চরম দুর্যোগের দিনগুলোতে পরীক্ষা স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত।

তবে মূল প্রশ্ন শুধু একটি দিনের পরীক্ষা নয়। প্রশ্ন হলো—যখন আগেই জানা থাকে যে এই সময় দেশে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা কিংবা তাপপ্রবাহ হতে পারে, তখন প্রতিবছর একই সময়ে পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের যৌক্তিকতা কোথায়?

আমার মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় পাবলিক পরীক্ষা আয়োজনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ। এ সময়ে আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূল থাকে, ঝড়-বৃষ্টি কম হয় এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও ভোগান্তি কম হয়। মাধ্যমিক পরীক্ষা জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চের শেষ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করা যেতে পারে।

অনেকে বলতে পারেন, এ সময় রমজান মাস বা ঈদের ছুটি থাকতে পারে। কিন্তু রোজা কোনোভাবেই পরীক্ষা আয়োজনের অন্তরায় হওয়ার কথা নয়। বিশ্বের বহু মুসলিমপ্রধান দেশেও রমজানে শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষা চলমান থাকে। রোজা রেখে মানুষ যেমন কর্মজীবনের দায়িত্ব পালন করেন, তেমনি পরীক্ষাও দিতে পারেন। তাই এটিকে বড় বাধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সরকার আগামী বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে একই সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা এখনও জুন-জুলাইয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িত। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী যদি তার প্রকৃত সক্ষমতা অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে না পারে, তার প্রভাব শুধু ফলাফলে নয়, উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনেও পড়তে পারে। তাই পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, যাতায়াত, দুর্যোগ এবং দেশের সার্বিক বাস্তবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করবে।