মঠবাড়িয়ায় ইউএনও’র বাসভবন থেকে লক্ষাধিক টাকার মালামাল চুরি
- প্রকাশের সময় : ১০:৫৮:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / ৪০৪ বার পড়া হয়েছে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিত্যক্ত সরকারি বাসভবন থেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাসভবনের সিলিং, বৈদ্যুতিক ফ্যান, কমোড, থাই গ্লাস, পাইপ, বৈদ্যুতিক তার, সিংকসহ যাবতীয় ফিটিংস গভীর রাতে খুলে নিয়ে যান অফিস সহায়ক (বর্তমানে কাউখালীতে বদলিকৃত) মো: রিয়াজ ও আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগকৃত গাড়িচালক মো: আল আমিন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ইউএনও আব্দুল কাইয়ুম ছুটিতে থাকাকালে ১৫–২০ জুলাই ২০২৫ সালের মধ্যে মো: রিয়াজের সহযোগিতায় আল আমিন বহেরাতলার কানাই মুচিকে নিয়ে গিয়ে মালামালগুলো রাতের অন্ধকারে খুলে নেয়। পরে আ: সালামের ভ্যানে করে সেগুলো আল আমিনের নিজ বাড়িতে নেয়া হয়।
কানাই মুচি জানান, তিনি আল আমিনের কথায় মালামাল খুলেছেন এবং এর বিনিময়ে ৮ হাজার টাকা মজুরি পেয়েছেন। ভ্যান চালক আ: সালাম বলেন, তিনি রাতে দুইবার মালামাল আল আমিনের বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। আল আমিন তাকে বলেছেন, তিনি নিলামের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকায় মালামাল কিনেছেন।
চুরি হওয়া মালামালের বাজারমূল্য ৪–৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউএনও আব্দুল কাইয়ুম জানান, তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং কাউকে মালামাল নেয়ার অনুমতি দেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো: আল আমিন বর্তমানে তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক এবং ইউএনওর গাড়িচালকের দায়িত্বে থেকেও অবৈধভাবে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন। অন্যদিকে মো: রিয়াজ অফিস সহায়ক পদে থেকেও নিজেকে অফিস সহকারী পরিচয় দিতেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সব দাফতরিক কাজ পরিচালনা করতেন। তিনি যে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন তার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।
প্রাক্তন ইউএনওদের সময়কালেও ওই ভবনে কয়েক দফায় সংস্কার করা হয়। সাবেক ইউএনও মো: সরফরাজ, আহসান হাবীব এবং উর্মী ভৌমিকের সময়কালীন সংস্কার ব্যয় প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টাকা ছিল বলে অবসরপ্রাপ্ত নাজির মো: সাইদুর রহমান জানান।
অভিযোগ রয়েছে, ২৮ জুলাই হঠাৎ করে মাত্র ৩ দিনের ব্যবধানে ৩১ জুলাই নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় এবং বিষয়টি যথাযথভাবে প্রচার করা হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ হওয়ায় নতুন ভবনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সময় স্বল্পতার কারণে দ্রুত নিলামের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে পুনরায় নিলাম আহ্বান করা হবে।
এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার শেষে বের হলে অভিযুক্ত ড্রাইভার মো: আল আমিন সাংবাদিক ও অভিযোগকারী আ: কুদ্দুস খানকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধরের হুমকি দেন।
স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছে, বিগত সরকারদলীয় আমলে নিয়োগ পাওয়া কিছু কর্মচারী এখনও ঘুষ, দুর্নীতি ও চুরির সঙ্গে জড়িত। তাদের বিচার না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।











